পড়ুন। ভাবুন। ফিরে আসুন।

কুরআন

প্রকাশিত অর্থানুবাদের পাশে আরবি পাঠ পড়ুন, আয়াত সংরক্ষণ করুন এবং নিজের ভাবনা লিখে রাখুন।

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ

রহমান, রহীম [১] আল্লাহ্‌র নামে [২]

অনুবাদের টীকা
সূরার নাম ও কিছু বৈশিষ্ট্য: সূরা আল-ফাতিহা-ই সর্বপ্রথম কুরআন মাজীদের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসাবে রাসূলের প্রতি নাযিল হয়েছে। [তাবারী, কাশশাফ, আল-ইতকান] সৰ্বপ্রথম অহীর মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে আয়াত বা সূরার অংশ নাযিল হয় তা হচ্ছে সূরা ‘আল-‘আলাক’-এর প্রাথমিক আয়াত কয়টি। [দেখুন, বুখারী: ৩] সূরা আল-মুদ্দাসসির-এর প্রাথমিক কতক আয়াত এর কিছুদিন পর নাযিল হয়। [বুখারী ৪৯২২, ৪৯২৪] কিন্তু এই খণ্ড আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার মধ্যে একটিও পূর্ণাঙ্গ সূরা ছিল না। পূর্ণাঙ্গ সূরা প্রথম যা নাযিল হয়েছে, তা হচ্ছে সূরা আল-ফাতিহা। কুরআন মাজীদের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রত্যেকটির জন্য একটি নাম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই নামকরণের ব্যাপারে কয়েকটি বিশেষ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু নাম আছে কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক, আর কিছু নাম রয়েছে আলেমদের ইজতিহাদ প্রসূত। কোনো কোনো সূরার নাম রাখা হয়েছে এর প্রথম শব্দ দ্বারা। কোনো সূরায় আলোচিত বিশেষ কোনো কথা কিংবা তাতে উল্লেখিত বিশেষ কোনো শব্দ নিয়ে তা-ই নাম হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো সূরার নামকরণ করা হয়েছে তার আভ্যন্তরীণ ভাবধারা ও বিষয়বস্তুকে সম্মুখে রেখে। কয়েকটি সূরার নাম রাখা হয়েছে কোনো একটি বিশেষ ঘটনার প্রতি খেয়াল রেখে। সূরা আল-ফাতিহার নাম রাখা হয়েছে কুরআনে এর স্থান-মর্যাদা, বিষয়বস্তু-ভাবধারা, এর প্রতিপাদ্য বিষয় ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে। এদিক দিয়ে সূরা আল-ফাতিহার স্থান সর্বোচ্চে। কেননা অন্যান্য সূরার ন্যায় সূরা আল-ফাতিহার নাম মাত্র একটি নয়, অনেকগুলো। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম হচ্ছে, ১. ‘ফাতিহাতুল কিতাব' (فَاتِحَةُ الْكِتَا بِ) কুরআনের চাবি-কাঠি। কেননা এই সূরা দ্বারাই কুরআনের সূচনা হয়, কুরআনের প্রথমেই একে রাখা হয়েছে। কুরআন খুলে সর্বপ্রথম এই সূরা-ই পাঠ করতে হয়। কখনও কখনও এই নামের রূপান্তর হয়ে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ হয়ে থাকে। এতে অর্থের দিক দিয়ে কোনো পার্থক্যই সূচিত হয় না। ২. ‘উম্মুল কিতাব’ (اُمُّ الْكِتَا بِ) আরবী ভাষায় ‘উম্ম্‌’ বলা হয় সর্ব ব্যাপক ও কেন্দ্রীয় মর্যাদাসম্পন্ন জিনিসকে। সৈন্য বাহিনীর ঝান্ডাকে বলা হয় উম্ম্‌। কেননা সৈনিকবৃন্দ তারই ছায়াতলে সমবেত হয়ে থাকে। মক্কা নগরের আর এক নাম হচ্ছে, ‘উম্মুল কুরা’-‘জনপদসমূহের মা’। কেননা হজের মৌসুমে সকল গোত্র ও জাতি থেকে মানুষেরা এই শহরেই একত্রিত হয়। ইমাম বুখারী কিতাবুত্‌ তাফসীর-এর শুরুতে লিখেছেন, এর নাম ‘উম্মুল কিতাব' এজন্য বলা হয়েছে যে, কুরআন লিখতে ও পড়তে তা-ই প্রথম এবং সালাতের কিরাতেও তা-ই প্রথম পাঠ করতে হয়। ৩. ‘সূরাতুল-হামদ’ (سُوْرَةُ الْحَمْد) তা'রীফ ও প্রশংসার সূরা। হামদ এই সূরার প্রথম শব্দ। ইহাতে আল্লাহর হামদ-তা'রীফ-প্রশংসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে, সে জন্য এটি এ সূরার জন্য যথার্থ নাম। ৪. ‘সূরাতুস-সালাত’ (سُوْرَةُ الصَّلَاةِ) - অর্থাৎ সালাতের সূরা। যেহেতু সব সালাতের সব রাকাতেই এটি পাঠ করতে হয় সেজন্যই এই নামকরণ হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (لَا صَلاَة لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ) অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি সালাতে সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার সালাত হবে না।’ [বুখারী ৭৫৬, মুসলিম ৩৯৪] ৫. ‘আস্‌-সাব্‘উল মাসানী’ (السَّبْعُ الْمَثَانِىْ)—'বার বার পাঠ করার সাতটি আয়াত'। সূরা ফাতিহার সাতটি আয়াত রয়েছে এবং তা বার বার পাঠ করা হয় বলে এর আরেক নাম ‘সাব্‌'উমাসানী’। অথবা সালাতের প্রতি রাকাতেই তা পড়া হয় বলেই এর এই নাম। [আল-কাশশাফ, বাগভী, তাফসীর ইবন কাসীর, আল-ইতকান, আত-তাফসীরুস সহীহ] আয়াত সংখ্যা : এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই যে, সূরা ফাতিহার মোট সাতটি আয়াত রয়েছে। এ জন্য হাদীস শরীফে একে সাতটি পুনরাবৃত্তিমূলক আয়াতের সূরা (السَّبْعُ الْمَثَانِىْ) বলা হয়েছে। [বুখারী ৪৭০৩] কুরআনুল কারীমেও একে এ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। [সূরা আল-হিজর ৮৭] এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, সূরার পূর্বে যে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" উল্লেখ করা হয়েছে তা সূরা ফাতিহার মধ্যে গণ্য আয়াত ও এর অংশ, না তা হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কোনো জিনিস? এর উত্তরে বলা যায়, কোনো কোনো সাহাবী “বিসমিল্লাহ"কে সূরা ফাতিহার অংশ মনে করতেন। পক্ষান্তরে অপর সাহাবীগণের মতে এটি এ সূরার অংশ নয়। তবে মদীনা শরীফে সংরক্ষিত কুরআনে এটিকে সূরা আল-ফাতিহার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ কিরাআতেও এটিকে সূরার প্রথমে একটি আয়াত ধরা হয়েছে এবং ‘সিরাতাল্লাযীনা আন'আমতা ‘আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওলাদ দাল্লীন’ পর্যন্ত পুরোটাকে একই আয়াত ধরা হয়েছে। আর যারা বিসমিল্লাহকে সূরার আয়াত হিসেবে গণ্য করেননি তারা (صِراطَ الَّذِيْنَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ) পর্যন্ত এক আয়াত, আর তার পরের অংশ (غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ) কে আলাদা আয়াত সাব্যস্ত করে সাত আয়াত পূর্ণ করেছেন। [বাগভী] নাযিল হওয়ার স্থান: গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে যে, সূরা আল-ফাতিহা মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, এটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবার কারও মতে এটা একবার মক্কায় এবং আরেকবার মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তাছাড়া এর অর্ধেক মক্কায় এবং অপর অর্ধেক মদীনায় নাযিল হয়েছে বলেও কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এসব মত গ্রহণযোগ্য নয়। তার বড় প্রমাণ এই যে, সূরা আল-হিজর সর্বসম্মতভাবে মাক্কী। তার ৮৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আপনাকে সাতটি বার বার পঠনীয় আয়াত ও কুরআনে ‘আযীম প্রদান করেছি।’ এই বার বার পঠনীয় সাতটি আয়াতই হল সূরা আল-ফাতিহা। [বাগভী] তাছাড়া সালাত মক্কায়ই ফরয হয়েছিল এবং সূরা ফাতিহা ছাড়া কখনই সালাত পড়া হয়নি- এটাও সর্বসম্মত কথা। সূরার ফযীলত: সূরা আল-ফাতিহার ফযীলত বর্ণনায় অসংখ্য হাদীস এসেছে। যেমন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে সালাতকে আমি দু’ভাগে বিভক্ত করেছি, আর আমার বান্দার জন্য তা-ই রয়েছে যা সে চায়। বান্দা (اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ) বললে আল্লাহ্‌ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে; আর যখন সে (الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ) বলে তখন আল্লাহ্‌ বলেন, আমার বান্দাহ্ আমার গুণ-গান করেছে। আর যখন সে বলে (مٰلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ) তখন আল্লাহ্‌ বলেন, আমার বান্দাহ আমাকে সম্মানে ভূষিত করেছে। আর যখন সে বলে (اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَاِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ) তখন আল্লাহ্‌ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে, আর আমার বান্দার জন্য তা-ই রয়েছে যা সে চায়। আর যখন সে বলে (اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَـقِيْمَ ـ صِرَاطَ الَّذِيْنَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ـ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ) তখন আল্লাহ্‌ বলেন, এটা আমার বান্দার জন্য আর আমার বান্দার জন্য তা-ই রয়েছে যা সে চায়।” [মুসলিম ৩৯৫] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্‌ তা'আলা উম্মুল কুরআন এর অনুরূপ কোনো কিছু তাওরাত ও ইঞ্জীলে নাযিল করেননি। আর তা হলো পুনঃ পুনঃ পঠিতব্য সাতটি আয়াত, যা আমি (আল্লাহ্‌) এবং বান্দাদের মাঝে দু'ভাগে বিভক্ত।" [নাসায়ী ৯১৩, তিরমিযী ৩১২৫] অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও জিবরিল ‘আলাইহিস্‌ সালাম উপবিষ্ট ছিলেন। তখন হঠাৎ উপরের দিকে (এক ধরণের) শব্দ শুনা গেল। তখন জিবরিল ‘আলাইহিস সালাম আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বললেন, এটা আকাশের একটি দরজা যা কখনও খোলা হয় নি। ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, অতঃপর সে দরজা দিয়ে একজন ফিরেশতা অবতরণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে দু’টি নূরের সুসংবাদ দিচ্ছি যা আপনাকে দেয়া হয়েছে, যা আপনার পূর্বে কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-বাকারাহ্ এর শেষাংশ। এর একটি অক্ষর পাঠের মাধ্যমে চাওয়া বস্তুও তাকে দেয়া হবে। [মুসলিম ৮০৬] অনুরূপভাবে আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে এক জায়গায় অবতরণ করলাম। সেখানে একটি মেয়ে এসে বলল, এ গ্রামের প্রধানকে সাপে দংশন করেছে, তোমাদের মধ্যে কেউ কি ঝাঁড়-ফুঁক করার মত আছে? তখন মেয়েটির সাথে এক ব্যক্তি গিয়ে তাকে ঝাঁড়-ফুঁক করে এল, আমরা তাকে ঝাঁড়-ফুঁক জানে বলে মনে করতাম না। এতে গ্রাম প্রধান আরোগ্য লাভ করেন। ফলে সে তাকে ত্রিশটি বকরী উপহার দিলেন এবং আমাদেরকে দুধ পান করালেন। আমাদের সঙ্গীকে আমরা বললাম তুমি কি ভালো ঝাঁড়-ফুঁক করতে জান? সে বলল, আমি শুধু উম্মুল কুরআন দ্বারা ফুঁক দিয়েছি। আমরা সবাইকে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তোমরা এগুলোকে কিছু কর না। অতঃপর মদীনা পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সব কথা খুলে বললাম। তিনি বললেন, সে কিভাবে জানলো যে, এটি একটি ঝাঁড়-ফুঁক করার বিষয়! তোমরা এগুলো বন্টন করে নাও এবং আমাকে তোমাদের সাথে এক ভাগ দিও। [মুসলিম ২২০১] অন্য বর্ণনায় আবু সা’য়ীদ ইবনুল মু'আল্লা বলেন, আমি সালাত আদায় করছিলাম এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি সালাত শেষ করেই তার ডাকে সাড়া দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আমার কাছে আসা থেকে তোমাকে কিসে বারণ করেছে? আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ তা'আলা কি বলেন নি যে, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও; যখন তোমাদেরকে ডাকেন সে বস্তুর দিকে যা তোমাদেরকে জীবন দান করবে।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বে আমি তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহান সূরা শিক্ষা দিব।’ ... অতঃপর তিনি বললেন, তাহলো, (اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ)। এটি হলো সাতটি পূনঃ পূনঃ পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে দান করা হয়েছে। [বুখারী ৪৬৪৭] উপর্যুক্ত হাদীসসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এ সূরাটি সবচেয়ে মহান সূরা। এ সূরা যদিও আল্লাহ তা‘আলার নিজস্ব কালাম, তবুও এর ধরন রাখা হয়েছে প্রার্থনামূলক। আল্লাহর নিকট মানুষকে কোন জিনিসের প্রার্থনা করতে হবে, সে প্রার্থনার নিয়ম ও প্রণালী কী হওয়া উচিত; আল্লাহর সম্মুখে মানুষের প্রকৃত স্থান কোথায় এবং সেই দৃষ্টিতে মানুষের আকীদা-বিশ্বাস কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়, তার জন্য বিশুদ্ধ দীন কী হতে পারে, এই দুনিয়ার অসংখ্য পথের মধ্যে হিদায়াতের পথ - আল্লাহর সন্তোষ লাভের সঠিক পথ - কোনটি, আর কোন পথে নাযিল হয় তাঁর অভিশাপ; এসব কথাই বিশ্ব-মানবের সম্মুখে সুষ্পষ্ট করে তুলে ধারা হয়েছে এই সূরার মাধ্যমে। আল্লাহর বিশেষ পরিচয় ও গুণাবীল অনিবার্য পরিণতি হিসেবে কিয়ামত-বিচারের দিন এবং রিসালাত ও নবুওয়তের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দিক দিয়ে এ সূরাকে কুরআনের ভূমিকা বলা যেতে পারে। কুরআনের সমগ্র সূরার মধ্যে এর গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণেই একে কুরআনের শুরুতে স্থাপন করা হয়েছে। অন্য কথায় ত্রিশ পারা কুরআন মাজীদে যা কিছু আলোচিত হয়েছে, অতি সংক্ষেপে তাই বর্ণিত হয়েছে এ ছোট্ট সূরাটিতে অথবা বলা যায়, পূর্ণ কুরআন এ ছোট্ট সুরাটিরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। [১] সাধারণত আয়াতের অনুবাদে বলা হয়ে থাকে, পরম করুণাময়, দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি। এ অনুবাদ বিশুদ্ধ হলেও এর মাধ্যমে এ আয়াতখানির পূর্ণভাব প্রকাশিত হয় না। কারণ, আয়াতটি আরও বিস্তারিত বর্ণনার দাবী রাখে। প্রথমে লক্ষণীয় যে, আয়াতে আল্লাহ্‌র নিজস্ব গুণবাচক নামসমূহের মধ্য হতে ‘আর-রাহমান ও আর-রাহীম' এ দু’টি নামই এক স্থানে উল্লিখিত হয়েছে। ‘রহম’ শব্দের অর্থ হচ্ছে দয়া, অনুগ্রহ। এই ‘রহম’ ধাতু হতেই ‘রহমান’ ও ‘রহীম' শব্দদ্বয় নির্গত ও গঠিত হয়েছে। ‘রহমান' শব্দটি মহান আল্লাহ্‌র এমন একটি গুণবাচক নাম যা অন্য কারও জন্য ব্যবহার করা জায়েয নেই। [তাবারী] কুরআন ও হাদীসে এমনকি আরবদের সাহিত্যেও এটি আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারও গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। পক্ষান্তরে ‘রহীম' শব্দটি আল্লাহ্‌র গুণ হলেও এটি অন্যান্য সৃষ্টজগতের কারও কারও গুণ হতে পারে। তবে আল্লাহ্‌র গুণ হলে সেটা যে অর্থে হবে অন্য কারও গুণ হলে সেটা সে একই অর্থে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। প্রত্যেক সত্তা অনুসারে তার গুণাগুণ নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। এখানে একই স্থানে এ দুটি গুণবাচক নাম উল্লেখ করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কোন কোন তাফসীরকার বলেছেন যে, আল্লাহ্‌ ‘রহমান’ হচ্ছেন এই দুনিয়ার ক্ষেত্রে, আর ‘রাহীম’ হচ্ছেন আখেরাতের হিসেবে। [বাগভী] [২] নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সর্বপ্রথম ‘ইক্‌রা বিসমি' বা সূরা আল-‘আলাক এর প্রাথমিক কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছিল। এতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে পাঠ শুরু করতে বলা হয়েছিল। সম্ভবত এজন্যই আল্লাহ্‌র এই প্রাথমিক আদেশ অনুযায়ী কুরআনের প্রত্যেক সূরা’র প্রথমেই তা স্থাপন করে সেটাকে রীতিমত পাঠ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। বস্তুতঃ বিসমিল্লাহ প্রত্যেকটি সূরার উপরিভাগে অর্থ ও বাহ্যিক আঙ্গিকতার দিক দিয়ে একটি স্বর্ণমুকুটের ন্যায় স্থাপিত রয়েছে। বিশেষ করে এর সাহায্যে প্রত্যেক দু’টি সূরার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করাও অতীব সহজ হয়েছে। হাদীসেও এসেছে, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরার শেষ তখনই বুঝতে পারতেন যখন বিসমিল্লাহ নাযিল করা হতো।’ [আবু দাউদ ৭৮৮] তবে প্রত্যেক সূরার প্রথমে ও কুরআন পাঠের পূর্বে এ বাক্য পাঠ করার অর্থ শুধু এ নয় যে, এর দ্বারা আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার সংবাদ দেয়া হচ্ছে। বরং এর দ্বারা স্পষ্ট কণ্ঠে স্বীকার করা হয় যে, দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত আল্লাহ্‌র তরফ হতে প্রাপ্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে এ কথাও মেনে নেয়া হয় যে, আল্লাহ্‌ তা'আলা আমাদের প্রতি যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন, বিশেষ করে দীন ও শরীয়াতের যে অপূর্ব ও অতুলনীয় নিয়ামত আমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, তা আমাদের জন্মগত কোনো অধিকারের ফল নয়। বরং তা হচ্ছে আল্লাহ্‌ তা'আলার নিজস্ব বিশেষ মেহেরবানীর ফল। তাছাড়া এই বাক্য দ্বারা আল্লাহ্‌র নিকট এই প্রার্থনাও করা হয় যে, তিনি যেন অনুগ্রহপূর্বক তাঁর কুরআনুল কারীমের বাণী বুঝার ও তদনুযায়ী জীবন-যাপন করার তওফীক দান করেন। এ ছোট্ট বাক্যটির অন্তর্নিহিত ভাবধারা এটাই। তাই শুধু কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার পূর্বেই নয় প্রত্যেক জায়েয কাজ আরম্ভ করার সময়ই এটি পাঠ করার জন্য ইসলামী শরীয়াতে নির্দেশ করা হয়েছে। কারণ, প্রত্যেক কাজের পূর্বে এটি উচ্চারণ না করলে তার মঙ্গলময় পরিণাম লাভে সমর্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিভিন্ন কথা ও কাজে এ কথাই ঘোষণা করেছেন। যেমন, তিনি প্রতিদিন সকাল-বিকাল বলতেন (بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْئٌ فِي الْاَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ)– “আমি সে আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি যার নামে শুরু করলে যমীন ও আসমানে কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারে না, আর আল্লাহ্‌ তো সব কিছু শুনেন ও সবকিছু দেখেন।" [আবুদাউদ ৫০৮৮, ইবন মাজাহ ৩৮৬৯] অনুরূপভাবে যখন তিনি রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে চিঠি লিখেন তাতে বিসমিল্লাহ্‌ লিখেছিলেন [বুখারী ৭], তাছাড়া তিনি যে কোনো ভাল কাজে বিসমিল্লাহ বলার জন্য নির্দেশ দিতেন। যেমন, খাবার খেতে [বুখারী ৫৩৭৬, মুসলিম ২০১৭, ২০২২], দরজা বন্ধ করতে, আলো নিভাতে, পাত্র ঢাকতে, পান-পাত্র বন্ধ করতে [বুখারী ৩২৮০], কাপড় খুলতে [ইবন মাজাহ ২৯৭, তিরমিয়ী ৬০৬], স্ত্রী সহবাসের পূর্বে [বুখারী ৬৩৮৮, মুসলিম ১৪৩৪], ঘুমানোর সময় [আবু দাউদ ৫০৫৪], ঘর থেকে বের হতে [আবুদাউদ ৫০৯৫], চুক্তিপত্র/ বেচা-কেনা লিখার সময় [সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী ৫/৩২৮], চলার সময় হোঁচট খেলে [মুসনাদে আহমাদ ৫/৫৯], বাহনে উঠতে [আবু দাউদ ২৬০২], মসজিদে ঢুকতে [ইবনে মাজাহ ৭৭১, মুসনাদে আহমাদ ৬/২৮৩], বাথরুমে প্রবেশ করতে [ইবন আবি শাইবাহ ১/১১], হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতে [সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী ৫/৭৯], যুদ্ধ শুরু করার সময় [তিরমিযী ১৭১৫], শক্র দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ব্যাথা পেলে বা কেটে গেলে [নাসায়ী ৩১৪৯], ব্যাথার স্থানে ঝাড়-ফুঁক দিতে [মুসলিম ২২০২], মৃতকে কবরে দিতে [তিরমিযী ১০৪৬], এ ব্যাপারে আরও বহু সহীহ হাদীস এসেছে। আবার কোথাও কোথাও ‘বিসমিল্লাহ' বলা ওয়াজিবও বটে, যেমন যবাই করতে [বুখারী ৯৮৫, মুসলিম ১৯৬০] যেহেতু মানুষের শক্তি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ, সে যে কাজই শুরু করুক না কেন, তা যে সে নিজে আশানুরূপে সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে, এমন কথা জোর করে বলা যায় না। এমতাবস্থায় সে যদি আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে কাজ শুরু করে এবং আল্লাহ্‌র অসীম দয়া ও অনুগ্রহের প্রতি হৃদয়-মনে অকুণ্ঠ বিশ্বাস জাগরুক রেখে তাঁর রহমত কামনা করে, তবে এর অর্থ এ-ই হয় যে, সংশ্লিষ্ট কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সে নিজের ক্ষমতা যোগ্যতা ও তদবীর অপেক্ষা আল্লাহ্‌র অসীম অনুগ্রহের উপরই অধিক নির্ভর ও ভরসা করে এবং তা লাভ করার জন্য তাঁরই নিকট প্রার্থনা করে ।
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · v1.1.1

সূরাসমূহ

114টি সূরা · 6,236টি আয়াত
1

Al-Faatiha

উদ্বোধন · ৭ আয়াত
الفاتحة
2

Al-Baqara

গাভী · ২৮৬ আয়াত
البقرة
3

Aal-i-Imraan

ইমরানের পরিবার · ২০০ আয়াত
آل عمران
4

An-Nisaa

নারীগণ · ১৭৬ আয়াত
النساء
5

Al-Maaida

খাদ্যপূর্ণ টেবিল · ১২০ আয়াত
المائدة
6

Al-An'aam

গবাদিপশু · ১৬৫ আয়াত
الأنعام
7

Al-A'raaf

উঁচু স্থান · ২০৬ আয়াত
الأعراف
8

Al-Anfaal

যুদ্ধলব্ধ সম্পদ · ৭৫ আয়াত
الأنفال
9

At-Tawba

তাওবা · ১২৯ আয়াত
التوبة
10

Yunus

ইউনুস · ১০৯ আয়াত
يونس
11

Hud

হুদ · ১২৩ আয়াত
هود
12

Yusuf

ইউসুফ · ১১১ আয়াত
يوسف
13

Ar-Ra'd

বজ্রধ্বনি · ৪৩ আয়াত
الرعد
14

Ibrahim

ইব্রাহিম · ৫২ আয়াত
ابراهيم
15

Al-Hijr

পাথুরে অঞ্চল · ৯৯ আয়াত
الحجر
16

An-Nahl

মৌমাছি · ১২৮ আয়াত
النحل
17

Al-Israa

রাত্রিযাত্রা · ১১১ আয়াত
الإسراء
18

Al-Kahf

গুহা · ১১০ আয়াত
الكهف
19

Maryam

মারইয়াম · ৯৮ আয়াত
مريم
20

Taa-Haa

ত্বা-হা · ১৩৫ আয়াত
طه
21

Al-Anbiyaa

নবীগণ · ১১২ আয়াত
الأنبياء
22

Al-Hajj

হজ · ৭৮ আয়াত
الحج
23

Al-Muminoon

মুমিনগণ · ১১৮ আয়াত
المؤمنون
24

An-Noor

আলো · ৬৪ আয়াত
النور
25

Al-Furqaan

সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড · ৭৭ আয়াত
الفرقان
26

Ash-Shu'araa

কবিগণ · ২২৭ আয়াত
الشعراء
27

An-Naml

পিঁপড়া · ৯৩ আয়াত
النمل
28

Al-Qasas

কাহিনিসমূহ · ৮৮ আয়াত
القصص
29

Al-Ankaboot

মাকড়সা · ৬৯ আয়াত
العنكبوت
30

Ar-Room

রোমানরা · ৬০ আয়াত
الروم
31

Luqman

লুকমান · ৩৪ আয়াত
لقمان
32

As-Sajda

সিজদা · ৩০ আয়াত
السجدة
33

Al-Ahzaab

জোটবাহিনী · ৭৩ আয়াত
الأحزاب
34

Saba

সাবা · ৫৪ আয়াত
سبإ
35

Faatir

স্রষ্টা · ৪৫ আয়াত
فاطر
36

Yaseen

ইয়াসিন · ৮৩ আয়াত
يس
37

As-Saaffaat

সারিবদ্ধরা · ১৮২ আয়াত
الصافات
38

Saad

সাদ অক্ষর · ৮৮ আয়াত
ص
39

Az-Zumar

দলসমূহ · ৭৫ আয়াত
الزمر
40

Al-Ghaafir

ক্ষমাকারী · ৮৫ আয়াত
غافر
41

Fussilat

বিশদভাবে ব্যাখ্যাত · ৫৪ আয়াত
فصلت
42

Ash-Shura

পরামর্শ · ৫৩ আয়াত
الشورى
43

Az-Zukhruf

সোনার অলংকার · ৮৯ আয়াত
الزخرف
44

Ad-Dukhaan

ধোঁয়া · ৫৯ আয়াত
الدخان
45

Al-Jaathiya

নতজানু · ৩৭ আয়াত
الجاثية
46

Al-Ahqaf

বালুর পাহাড় · ৩৫ আয়াত
الأحقاف
47

Muhammad

মুহাম্মদ · ৩৮ আয়াত
محمد
48

Al-Fath

বিজয় · ২৯ আয়াত
الفتح
49

Al-Hujuraat

অন্দরমহল · ১৮ আয়াত
الحجرات
50

Qaaf

কাফ অক্ষর · ৪৫ আয়াত
ق
51

Adh-Dhaariyat

বিক্ষেপকারী বাতাস · ৬০ আয়াত
الذاريات
52

At-Tur

পর্বত · ৪৯ আয়াত
الطور
53

An-Najm

তারা · ৬২ আয়াত
النجم
54

Al-Qamar

চাঁদ · ৫৫ আয়াত
القمر
55

Ar-Rahmaan

পরম দয়াময় · ৭৮ আয়াত
الرحمن
56

Al-Waaqia

অবশ্যম্ভাবী · ৯৬ আয়াত
الواقعة
57

Al-Hadid

লোহা · ২৯ আয়াত
الحديد
58

Al-Mujaadila

অনুযোগকারী নারী · ২২ আয়াত
المجادلة
59

Al-Hashr

নির্বাসন · ২৪ আয়াত
الحشر
60

Al-Mumtahana

পরীক্ষিত নারী · ১৩ আয়াত
الممتحنة
61

As-Saff

সারিবদ্ধ দল · ১৪ আয়াত
الصف
62

Al-Jumu'a

জুমুআ · ১১ আয়াত
الجمعة
63

Al-Munaafiqoon

মুনাফিকগণ · ১১ আয়াত
المنافقون
64

At-Taghaabun

পারস্পরিক মোহমুক্তি · ১৮ আয়াত
التغابن
65

At-Talaaq

তালাক · ১২ আয়াত
الطلاق
66

At-Tahrim

নিষেধাজ্ঞা · ১২ আয়াত
التحريم
67

Al-Mulk

সার্বভৌমত্ব · ৩০ আয়াত
الملك
68

Al-Qalam

কলম · ৫২ আয়াত
القلم
69

Al-Haaqqa

মহাসত্য · ৫২ আয়াত
الحاقة
70

Al-Ma'aarij

আরোহণের সোপান · ৪৪ আয়াত
المعارج
71

Nooh

নূহ · ২৮ আয়াত
نوح
72

Al-Jinn

জিন · ২৮ আয়াত
الجن
73

Al-Muzzammil

আচ্ছাদিত ব্যক্তি · ২০ আয়াত
المزمل
74

Al-Muddaththir

চাদরে আবৃত ব্যক্তি · ৫৬ আয়াত
المدثر
75

Al-Qiyaama

পুনরুত্থান · ৪০ আয়াত
القيامة
76

Al-Insaan

মানুষ · ৩১ আয়াত
الانسان
77

Al-Mursalaat

প্রেরিত বায়ু · ৫০ আয়াত
المرسلات
78

An-Naba

মহাসংবাদ · ৪০ আয়াত
النبإ
79

An-Naazi'aat

প্রবলভাবে টেনে নেওয়ারা · ৪৬ আয়াত
النازعات
80

Abasa

তিনি ভ্রুকুটি করলেন · ৪২ আয়াত
عبس
81

At-Takwir

উল্টে যাওয়া · ২৯ আয়াত
التكوير
82

Al-Infitaar

বিদীর্ণ হওয়া · ১৯ আয়াত
الإنفطار
83

Al-Mutaffifin

প্রতারণা · ৩৬ আয়াত
المطففين
84

Al-Inshiqaaq

বিদীর্ণ হওয়া · ২৫ আয়াত
الإنشقاق
85

Al-Burooj

নক্ষত্রপুঞ্জ · ২২ আয়াত
البروج
86

At-Taariq

প্রভাতী তারা · ১৭ আয়াত
الطارق
87

Al-A'laa

সর্বোচ্চ · ১৯ আয়াত
الأعلى
88

Al-Ghaashiya

আচ্ছন্নকারী · ২৬ আয়াত
الغاشية
89

Al-Fajr

ভোর · ৩০ আয়াত
الفجر
90

Al-Balad

নগর · ২০ আয়াত
البلد
91

Ash-Shams

সূর্য · ১৫ আয়াত
الشمس
92

Al-Lail

রাত · ২১ আয়াত
الليل
93

Ad-Dhuhaa

পূর্বাহ্ন · ১১ আয়াত
الضحى
94

Ash-Sharh

সান্ত্বনা · ৮ আয়াত
الشرح
95

At-Tin

ডুমুর · ৮ আয়াত
التين
96

Al-Alaq

জমাট রক্ত · ১৯ আয়াত
العلق
97

Al-Qadr

মহিমা, তাকদির · ৫ আয়াত
القدر
98

Al-Bayyina

সুস্পষ্ট প্রমাণ · ৮ আয়াত
البينة
99

Az-Zalzala

ভূমিকম্প · ৮ আয়াত
الزلزلة
100

Al-Aadiyaat

দ্রুতগামী অশ্ব · ১১ আয়াত
العاديات
101

Al-Qaari'a

মহাবিপদ · ১১ আয়াত
القارعة
102

At-Takaathur

প্রতিযোগিতা · ৮ আয়াত
التكاثر
103

Al-Asr

ক্ষয়িষ্ণু সময়, যুগ · ৩ আয়াত
العصر
104

Al-Humaza

পরনিন্দাকারী · ৯ আয়াত
الهمزة
105

Al-Fil

হাতি · ৫ আয়াত
الفيل
106

Quraish

কুরায়সহ · ৪ আয়াত
قريش
107

Al-Maa'un

দান · ৭ আয়াত
الماعون
108

Al-Kawthar

প্রাচুর্য · ৩ আয়াত
الكوثر
109

Al-Kaafiroon

কাফিরগণ · ৬ আয়াত
الكافرون
110

An-Nasr

আল্লাহর সাহায্য · ৩ আয়াত
النصر
111

Al-Masad

খেজুরের আঁশ · ৫ আয়াত
المسد
112

Al-Ikhlaas

একনিষ্ঠতা · ৪ আয়াত
الإخلاص
113

Al-Falaq

ভোর · ৫ আয়াত
الفلق
114

An-Naas

মানবজাতি · ৬ আয়াত
الناس
পাঠের উৎস ও নির্ভুলতা

মূল আরবি: Tanzil Uthmani v1.1. অর্থের অনুবাদ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · v1.1.1.

সব ৬,২৩৬টি আয়াতের সূত্র উৎসের সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে। এটি প্রযুক্তিগত অখণ্ডতা যাচাই, স্বাধীন আলেমি পর্যালোচনা নয়। শুরুতে থাকা বিসমিল্লাহগুলো উৎসে যেমন ছিল তেমন রাখা হয়েছে।

# PLEASE DO NOT REMOVE OR CHANGE THIS COPYRIGHT BLOCK
#====================================================================
#
#  Tanzil Quran Text (Uthmani, Version 1.1)
#  Copyright (C) 2007-2026 Tanzil Project
#  License: Creative Commons Attribution 3.0
#
#  This copy of the Quran text is carefully produced, highly 
#  verified and continuously monitored by a group of specialists 
#  at Tanzil Project.
#
#  TERMS OF USE:
#
#  - Permission is granted to copy and distribute verbatim copies 
#    of this text, but CHANGING IT IS NOT ALLOWED.
#
#  - This Quran text can be used in any website or application, 
#    provided that its source (Tanzil Project) is clearly indicated, 
#    and a link is made to tanzil.net to enable users to keep
#    track of changes.
#
#  - This copyright notice shall be included in all verbatim copies 
#    of the text, and shall be reproduced appropriately in all files 
#    derived from or containing substantial portion of this text.
#
#  Please check updates at: http://tanzil.net/updates/
#
#====================================================================
পূর্ণ উৎসপরম্পরা ও অনুমতি

অনুবাদের উৎস

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria
Bengali translation of Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria.
উৎসের সংস্করণ: 1.1.1 · 2021-05-22

QuranEnc.com · অর্থের অনুবাদ

উৎসের অনুমতি · অনুবাদের সমস্যা জানান

এই ভাষার সংস্করণে ধর্মগ্রন্থের স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ নয়, নামযুক্ত একটি প্রকাশিত কুরআন অনুবাদ ব্যবহৃত হয়েছে।

ইন্টারফেসটি এআইয়ের সহায়তায় অনূদিত। স্বাধীন মাতৃভাষী পর্যালোচনা বাকি আছে। অনুবাদের সমস্যা জানান · মূল ইংরেজি পড়ুন